আন্তর্জাতিক

রিয়াদে হামলার পর সৌদির আকাশসীমা নিয়ে নতুন আতঙ্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হামলার পরদিনই সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান সংস্থা, বিমানকর্মী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার ( ১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর তাদের সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে বলেও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

তবে হামলা, হতাহতের সংখ্যা এবং বিমানবন্দর বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রয়টার্সের মূল প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

হামলায় ১২ জন নিহতের দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রকেট ও ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ও দুই বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে হামলাটিকে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা, নিহতদের পরিচয় এবং হামলার দায় সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সৌদির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা

হুথিদের বার্তায় মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এমন হুঁশিয়ারি কার্যকর হলে দেশটির বিমান চলাচল, আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সাময়িকভাবে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করেছে। দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে পাঠদান স্থগিত করে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারি ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।

সামরিক অভিযান নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

হুথি পরিচালিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আরও কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যেকোনো হামলার জবাব সমপরিমাণে দেওয়া হবে বলেও গোষ্ঠীটি জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা জোরদার হওয়ার পর সংঘাত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ বক্তব্যের যথার্থতা ও প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের তথ্য প্রয়োজন।

উত্তেজনার মধ্যেও জ্বালানি সম্মেলন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও রিয়াদে নির্ধারিত বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি কনভেনশন সেন্টারে রোববার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এ সম্মেলনে ৭০ জনের বেশি মন্ত্রী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র পতন ও ড্রোন প্রতিহত করার খবরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রিয়াদের বিমানবন্দর ঘিরে হামলার দাবি, হুথিদের নতুন হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা, বিমানবন্দরের কার্যক্রম, হামলার দায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য সূত্রের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

সূত্র: রয়টার্স

সন্ধানী বার্তা/এসএ

 


সম্পর্কিত খবর