দেশজুড়ে

দেশি নারিকেলের চড়া দাম, বগুড়ায় ভারতীয় নারিকেলের চাহিদা তুঙ্গে

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার বাজারগুলোতে বেড়েছে নারিকেলের চাহিদা। পূজার অন্যতম খাবার নারিকেলের নাড়ু তৈরি ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য নারিকেল কিনছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তবে দেশি নারিকেলের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ ঝুঁকছেন তুলনামূলক কম দামের ভারতীয় নারিকেলের দিকে। ফলে শহরের খুচরা বাজার থেকে শুরু করে পাইকারি আড়ত—সবখানেই দেখা যাচ্ছে ভারতীয় নারিকেলের সরব উপস্থিতি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলেজ বাজার, চেলোপাড়া চাষী বাজার ও কলোনী বাজার ঘুরে দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের আধিক্য দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি নারিকেলের সরবরাহ এবার চাহিদার তুলনায় কম। অন্যদিকে ভারতীয় নারিকেল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাওয়ায় এর বিক্রি বেড়েছে।

দামে বড় ব্যবধান

বাজারে দেশি ও ভারতীয় নারিকেলের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। খুচরা বাজারে ছোট আকারের দেশি নারিকেল প্রতিটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং বড় নারিকেল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপরীতে ছোট ভারতীয় নারিকেলের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং বড়গুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা।

পাইকারি বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কের আড়তগুলোতে ছোট দেশি নারিকেল প্রতিটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বড় নারিকেল ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় নারিকেলের ক্ষেত্রে ছোটগুলোর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বড়গুলোর দাম ৯০ থেকে ১২০ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতীয় নারিকেলের শাঁস তুলনামূলক পুরু হওয়ায় অনেক ক্রেতা এটি পছন্দ করছেন। তবে কম দামই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার প্রধান কারণ।

পূজার নাড়ু তৈরিতে স্বস্তি

ফতেহ আলী বাজারে নারিকেল কিনতে আসা এনজিওকর্মী শ্যামল বিশ্বাস বলেন, দেশি নারিকেলের দাম অনেক বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে ভারতীয় নারিকেল কিনছেন তিনি। পূজায় নাড়ু অন্যতম খাবার। অতিথি আপ্যায়ন কিংবা প্রসাদ—সব ক্ষেত্রেই নাড়ুর প্রয়োজন হয়। তাই নারিকেল কেনার বিকল্প নেই।

একই বাজারের ব্যবসায়ী কিশোর সাহা বলেন, দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের চাহিদা বেশি। আকারে কিছুটা ছোট হলেও দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা এটি কিনছেন। সবার পক্ষে বেশি দামে দেশি নারিকেল কেনা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

গাবতলীর মহিষাবান এলাকার দই বিক্রেতা মিথুন প্রামাণিক জানান, শহরের আড়তগুলোতে তুলনামূলক কম দামে নারিকেল পাওয়া যায়। এ কারণে তিনি সেখান থেকেই কেনাকাটা করেন। এবার ভারতীয় নারিকেলের দাম কম হওয়ায় চার জোড়া ছোট নারিকেল ৪০০ টাকায় কিনেছেন তিনি।

দেশি নারিকেলের সরবরাহ কম

আনোয়ার নারকেল ঘরের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছর বগুড়ায় যে পরিমাণ নারিকেলের প্রয়োজন হয়, এবার সে অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায়নি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা ও বরিশাল থেকে বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি নারিকেল আসে। এ বছর ভারতীয় নারিকেল বাজারে আসায় বিক্রি বেড়েছে।

নারিকেল ব্যবসায়ী বাদল প্রাং বলেন, ভারতীয় নারিকেল না এলে অনেক ক্রেতার পক্ষে দেশি নারিকেল কিনে নাড়ু তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ত। গত তিন থেকে চার বছর ধরে দুর্গাপূজার সময় ভারতীয় নারিকেল দেশের বাজারে আসছে বলেও জানান তিনি।

বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ী ও আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া মহানগর শাখার সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, ভারতীয় নারিকেল আমদানি হওয়ায় ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে এটি কিনতে পারছেন। দেশি নারিকেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেকের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে ভারতীয় নারিকেলের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নারিকেলের চাহিদা বাড়লেও দেশি নারিকেলের সরবরাহ ও দাম ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভারতীয় নারিকেল পূজার প্রস্তুতিতে অনেকের ভরসা হয়ে উঠেছে।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর