দেশজুড়ে

বৃষ্টির পর কুয়াশার চাদরে আক্কেলপুর, দিনে গরম রাতে ঠান্ডা

টানা দুই দিনের বৃষ্টির পর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে প্রকৃতিতে দেখা দিয়েছে পরিবর্তন। শরতের ভোরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে সড়ক, ফসলের মাঠ ও গ্রামীণ জনপদ। ঘাসে ঘাসে জমছে শিশির, বইছে হিমেল বাতাস। সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। তবে সকাল গড়িয়ে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে, বাড়ছে রোদের তাপও।

শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামীণ এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। কুয়াশার কারণে দূরের পথ অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। সকালে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করে কৃষক ও দিনমজুরেরাও বেরিয়ে পড়েন কাজে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই দিনের বৃষ্টির পর থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোরে বাড়ির আশপাশ কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। রাতে ও সকালে ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিনের বেলায় আবার গরম পড়ছে। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কমে আসায় হালকা শীতের অনুভূতি হচ্ছে।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, শরৎকালে এবার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ফলে রাত ও সকালে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে।

আক্কেলপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন বলেন, অক্টোবরের শুরুতেই এমন আবহাওয়া দেখা যাবে, তা ভাবেননি তিনি। গত দুই দিনের বৃষ্টির পর ভোরে ঘন কুয়াশা পড়ছে। রাতে হালকা কাঁথা ব্যবহার করতে হচ্ছে। কখনও আবার ফ্যানও চালাতে হচ্ছে। দিনের বেলায় অবশ্য গরম অনুভূত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সকালে বাইরে বের হলে ঠান্ডা অনুভূত হয়। তবে দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গিয়ে রোদের তাপ বাড়ে। সন্ধ্যা নামলে আবার ঠান্ডা অনুভূত হয়।

ট্রাকচালক লিটন হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। সকালে কুয়াশা এতটাই ঘন হচ্ছে যে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে উত্তরাঞ্চলের জনজীবনে শরতের চেনা রূপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীতের হালকা আমেজ। তবে তাপমাত্রার এই ওঠানামা ও কুয়াশার প্রবণতা কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর