জাতীয়

৫০৩ উপজেলায় সুষম উন্নয়ন চায় সরকার, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকারের অঙ্গীকার স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

দল-মত ও অঞ্চলনির্বিশেষে দেশের ৫০৩টি উপজেলার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কোনো একটি অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত না করে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সমবায়ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সরকারি সেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়ের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।

  • কোনো অঞ্চলকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত না করার তাগিদ
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণেও গুরুত্ব
  • সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়
  • প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমিতির কার্যকারিতা নিশ্চিত ও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান

উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকবে সাধারণ মানুষ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কোনো একটি উপজেলার জন্য এমন সুবিধা দেওয়া উচিত হবে না, যা পাশের অন্য উপজেলার মানুষ পাবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক ভারসাম্য ও সর্বজনীন জনস্বার্থের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সব এলাকায় সমান ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন না হলেও প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সৌরবিদ্যুতে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ
প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, ব্যয় সাশ্রয় করবে এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

আড়াই লাখ সমবায় সমিতিকে কাজে লাগানোর তাগিদ
দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শুধু নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সেগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করে সেগুলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজে সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

বেতন সমন্বয় নিয়ে সরকারের ভাবনা
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা কেবল চাকরিজীবী নন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে একবারে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক ও পারিবারিক জীবনে নানা সংকটের মুখে পড়েছেন। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবাইকে একসঙ্গে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধানী বার্তা /এমএএএমকে

 


সম্পর্কিত খবর