যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অস্বস্তিকর এক বাস্তবতার মুখোমুখি রিপাবলিকান পার্টি। যাঁর নেতৃত্বে গত এক দশকে দলটির রাজনৈতিক চেহারা বদলে গেছে, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই এখন নির্বাচনী মাঠে এড়িয়ে চলছেন দলের একের পর এক প্রার্থী। কংগ্রেসের হাড্ডাহাড্ডি আসনগুলোতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্পের নীতি থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন তাঁরা; কেউ প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাচ্ছেন, কেউ প্রচারণা থেকে তাঁর নাম-ছবি সরিয়ে ফেলছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন তাই শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের লড়াই নয়; এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবেরও বড় পরীক্ষা।
- ৬২ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ৪১টিতেই ট্রাম্পের নীতি থেকে সরে প্রার্থীরা
- ৩২ শতাংশে আটকে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা
- কংগ্রেস হারানোর শঙ্কায় নতুন কৌশল
৪১ আসনে ট্রাম্পের সঙ্গে ভিন্ন সুর
রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৬২টি আসনের মধ্যে ৪১টির রিপাবলিকান প্রার্থী কোনো না কোনো ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তবে তাঁরা সরাসরি ট্রাম্পের বিরোধিতায় যাচ্ছেন না। বরং নির্দিষ্ট নীতিগত প্রশ্নে নিজেদের আলাদা অবস্থান তুলে ধরে স্বতন্ত্র ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। ২৩টি নির্বাচনী লড়াইয়ে নীতিগত মতপার্থক্যই ছিল দূরত্ব তৈরির প্রধান কারণ। এর মধ্যে ১২টি আসনে ইরান-সংক্রান্ত নীতি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। কয়েকজন প্রার্থী ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন কিংবা সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানি মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগই এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
প্রচারণা থেকে মুছে যাচ্ছে ট্রাম্প
দূরত্ব তৈরির সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায়। অন্তত এক ডজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাঁদের ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম, ছবি কিংবা তাঁর দেওয়া সমর্থনের তথ্য সরিয়ে দিয়েছেন। কেউ ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না, কেউ আবার তিনি তাঁদের হয়ে প্রচারণা চালাবেন কি না—সে প্রশ্নও এড়িয়ে যাচ্ছেন। এমন কৌশল রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কারণ গত এক দশকে ট্রাম্প শুধু দলের নেতা হননি; দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনী ভাষা এবং ভোটব্যাংকের ওপরও তাঁর গভীর প্রভাব তৈরি হয়েছে।
জনমতই বদলে দিচ্ছে হিসাব
ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তাঁর জনসমর্থনের দুর্বলতা। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন জরিপে তাঁর অনুমোদন হার মাত্র ৩২ শতাংশ—রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম নিম্ন পর্যায়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৪ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা ৩৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে; রিপাবলিকানদের সমর্থন মাত্র ২১ শতাংশ। এই ব্যবধানই হয়তো রিপাবলিকান প্রার্থীদের বার্তা দিচ্ছে—ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করেও তাঁর অজনপ্রিয়তা থেকে নিজেদের আলাদা রাখতে হবে।
কংগ্রেস হারালে চাপ বাড়বে ট্রাম্পের ওপর
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ। দুই কক্ষের যেকোনো একটি হারালেই ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা বাড়তে পারে। আর উভয় কক্ষ হাতছাড়া হলে তাঁর প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকটের কথা মানছে না। মুখপাত্র ডেভিস ইংগল তাঁকে দলের ‘অসংবাদিত নেতা’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
কিন্তু নির্বাচনী মাঠের চিত্র বলছে অন্য কথা। ভোটারদের মনোভাব বুঝে রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণায় ট্রাম্পের ছায়া ছোট করছেন। ফলে ৩ নভেম্বরের ভোট শুধু কে কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে—তার উত্তর দেবে না; একই সঙ্গে এটাও দেখাবে, ট্রাম্প ছাড়া রিপাবলিকান প্রার্থীরা কতটা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পেরেছেন।
সন্ধানী বার্তা/এসএ/এমকে