দেশজুড়ে

দ্বিতীয় করতোয়া সেতুতে বদলে যাবে পঞ্চগড়ের গ্রামীণ অর্থনীতি

পঞ্চগড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের দাবির পর বহুল প্রত্যাশিত ‘দ্বিতীয় করতোয়া সেতু’ নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটি জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একনেকের পঞ্চম সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে সেতুটি।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। চলতি অক্টোবর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেতুটি নির্মিত হলে ভজনপুর, আটোরখাড়ি, ময়নাগুড়ি, আমতলী ও মিরগড়সহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও পাথর পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পঞ্চগড়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার আলী প্রকল্পটির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্বিতীয় করতোয়া সেতুর অনুমোদন জেলাবাসীর জন্য বড় সুখবর। ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মানের সেতুটি নির্মিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ওই স্থানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল। সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগের পাশাপাশি কৃষি, পাথর ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর