টাঙ্গাইলের মধুপুরে আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলের কলা, পেঁপে, আনারস ও সবজির বাগান। কয়েক মিনিটের প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে অসংখ্য কলাগাছ। এতে শত শত কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মধুপুরের শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বাগানে কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। কোথাও উপড়ে গেছে গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেঁপে, আনারস ও বিভিন্ন সবজির আবাদও। ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে আসায় এই ক্ষতি কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, প্রাথমিক হিসাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। আকস্মিক ঝড়ে এক মুহূর্তেই সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছেন। ফসল ভালো হলে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি