সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর : অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশু নয়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও অ্যাকাডেমির কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পৌঁছে দিতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে।
শিশুদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ ১৪টি ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান শিশুদের মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনারে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
মুক্ত আলোচনায় শিশুশ্রম নিরসন, অপুষ্টি দূরীকরণ, শিশুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শিশুদের সার্বিক কল্যাণে একটি ‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা, শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জেলার শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি