স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় নিয়মিতই আপডেটের নোটিফিকেশন পান ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অনেকেই অ্যাপ ঠিকঠাক কাজ করছে—এমন ধারণা থেকে নতুন সংস্করণ ইনস্টল না করে নোটিফিকেশনটি এড়িয়ে যান। আপাতদৃষ্টিতে এতে সমস্যা না হলেও দীর্ঘদিন অ্যাপ আপডেট না করলে নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স ও সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নতুন ফিচার যোগ করার পাশাপাশি অ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করা, বাগ ঠিক করা, পারফরম্যান্স উন্নত করা এবং নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হয় আপডেটের মাধ্যমে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে
নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিরাপত্তা। কোনো অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে নিরাপত্তা ত্রুটি থাকলে সাইবার অপরাধীরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে ফোন বা অ্যাপের ভেতরে থাকা তথ্যের ক্ষতি করার সুযোগ পেতে পারে।
কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি সমাধানের জন্য নির্মাতারা সাধারণত নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। তাই দীর্ঘদিন আপডেট না করলে ত্রুটিটি ঠিক করার পরও ব্যবহারকারীর ফোনে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ থেকে যেতে পারে।
নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হবেন
অ্যাপ নির্মাতারা নিয়মিত নতুন সুবিধা যুক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিউজিক, পডকাস্ট, কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবার অ্যাপে নতুন ফিচার পেতে হলে অনেক সময় সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল করা প্রয়োজন হয়।
পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করলে এসব সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে। ফলে নতুন ফিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও অন্যদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়ে।
তবে আপডেটের পর অ্যাপের ইন্টারফেসে পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি আগে থাকা কোনো ফিচার পরিবর্তিত বা বাদও যেতে পারে।
বাগ ও ধীরগতি কমাতে
অ্যাপের কারিগরি ত্রুটি বা বাগ সমাধান করাও আপডেটের অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ধীরগতিতে কাজ করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি ও ফোনের রিসোর্স ব্যবহার করার মতো সমস্যা দেখা দিলে নতুন সংস্করণে তার সমাধান থাকতে পারে।
এ ছাড়া অ্যাপের কোড ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অংশ উন্নত করার মাধ্যমে কার্যকারিতা বাড়ানো হয়। ফলে আপডেটের পর অ্যাপ আগের তুলনায় দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারে।
নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের সঙ্গে সামঞ্জস্য
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস সংস্করণ চালু হলে অ্যাপ নির্মাতাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ভেতরে পরিবর্তন আনতে হয়।
অ্যাপ পুরোনো থাকলে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের কিছু সুবিধা ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাপ চালু করতে বা নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহার করতেও সমস্যা হতে পারে। এমনকি কিছু অ্যাপ একপর্যায়ে সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল না করলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে।
স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করবেন যেভাবে
অ্যাপ আপডেটের ঝামেলা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ডিভাইসেই স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালুর সুযোগ রয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েডে: গুগল প্লে স্টোর খুলে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর Settings → Network preferences → Auto-update apps অপশনে গিয়ে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু করা যায়।
আইফোনে: Settings → Apps → App Store-এ গিয়ে App Updates অপশনটি চালু করতে হবে।
তবে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলেও মাঝেমধ্যে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে আপডেট বাকি আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো। কারণ সব আপডেট সবসময় একই সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অ্যাপ আপডেটকে শুধু নতুন ফিচার পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। স্মার্টফোনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেও নিয়মিত আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ।
সন্ধানী বার্তা/জেএন