বিনোদন

মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন বাংলাদেশের তারকারা

পূর্ণিমা ও পরিমনি

ফুটবলের মঞ্চে শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে দাঁড়ালেন লিওনেল মেসি। আর সেই মুহূর্তে যেন থমকে গেল সময়। গ্যালারিজুড়ে আবেগ, মাঠে বিদায়ের আবহ—এর মধ্যেই চেনা জাদুতে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকেও স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন ৩-০ গোলের জয়। জয়ের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ করলেন মেসি।

তবে মেসির বিদায়ের আবেগ শুধু মাঠ কিংবা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই আটকে থাকেনি। বিশ্বের কোটি ভক্তের মতো বাংলাদেশি তারকারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় ফুটবলারের বিদায় নিয়ে প্রকাশ করেছেন নিজেদের অনুভূতি। তাদের কথায় উঠে এসেছে মেসিকে ঘিরে বছরের পর বছর জমে থাকা ভালোবাসা, স্মৃতি, শৈশবের আবেগ এবং একটি যুগের অবসানের বেদনা।

‘জীবনের সব দুঃখ এক পাশে, মেসির বিদায়ের বেদনা অন্য পাশে’

মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আবেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনের সব দুঃখ এক পাশে, আর অন্য পাশে মেসিকে হয়তো শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দেখতে পাওয়ার বেদনা!’

পূর্ণিমার এই ছোট্ট বার্তাতেই যেন ফুটে উঠেছে মেসিকে ঘিরে অসংখ্য ভক্তের অনুভূতি। কারণ প্রিয় তারকাকে শুধু ফুটবল মাঠে দেখেননি তারা; তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনের নানা সময়, আনন্দ-বেদনা ও অসংখ্য স্মৃতি।

পরীমনির কাছে ‘একটি যুগের শেষ অধ্যায়’

মেসির বিদায়কে ঘিরে দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার কাছে এটি শুধুই একটি ম্যাচ নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তি।

পরীমনি লিখেছেন, ‘আজকের এই ম্যাচ শুধু একটা ম্যাচ নয়… আজ একটা যুগের শেষ অধ্যায়।’

মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। কত রাত জেগে মেসির খেলা দেখা, তার গোলের পর উচ্ছ্বাস আর হারের পর কষ্ট—সব স্মৃতিই যেন বিদায়ের মুহূর্তে একসঙ্গে ফিরে এসেছে বলে জানান অভিনেত্রী।

২০২২ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে পরীমনি লিখেছেন, মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার আনন্দ তিনি কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।

তার ভাষায়, ম্যাচের ফলাফল এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে মেসিকে মনভরে দেখাটাই বড় হয়ে উঠেছে।

বিদায়ী মেসিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিদায় নয়, লিও তুমি তো ফুটবলের ইতিহাসে থেকে যাবে। আর্জেন্টিনার জার্সি বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে, কিন্তু ১০ নম্বরের গল্পটা কখনো শেষ হবে না।’

‘আমাদের সোনালী যুগের জাদুকর’

মেসির বিদায়ী মুহূর্তে নিজের আবেগ জানিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সোনালী যুগের জাদুকর, তোমার যাত্রা শেষ হলেও আমাদের স্মৃতিতে তুমি থাকবে আজীবন! শেষবারের মতো আরও একবার লিওনেল মেসি।’

ইরফান সাজ্জাদের এই বার্তাতেও উঠে এসেছে একটি প্রজন্মের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক। মাঠে তার উপস্থিতি শেষ হলেও স্মৃতিতে তার জায়গা কখনো শেষ হবে না—এটাই যেন বার্তার মূল সুর।

‘কিংবদন্তিরা মাঠ ছাড়েন, হৃদয় নয়’

সংগীতশিল্পী বেলাল খানও মেসির বিদায়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, লিও। কিংবদন্তিরা মাঠ ছাড়েন, হৃদয় নয়। লিও মেসি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবে।’

মেসিকে নিজেদের আবেগ, শৈশব ও গর্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘তুমি ছিলে আমাদের আবেগ, আমাদের শৈশব, আমাদের গর্ব। চিরকাল ভালোবাসা, লিওনেল মেসি।’

শেষ ম্যাচেও মেসির জাদু

বাংলাদেশি তারকাদের এই আবেগের পেছনে রয়েছে মেসির বিদায়ী ম্যাচের অসাধারণ পারফরম্যান্সও। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে একটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

ম্যাচজুড়ে ৯১ বার বল স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গোল করে নিজের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১২৬-এ। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল তার শেষ ম্যাচ।

বিদায়ী ম্যাচের আগে থেকেই পুরো মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল মেসিকে ঘিরে আবেগ। জাতীয় সংগীতের সময় চোখে পানি ধরে রাখতে কষ্ট হয়েছে তার। ম্যাচের এক পর্যায়ে তাকে সম্মান জানাতে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালিতে মেতে ওঠে।

প্রতিপক্ষ বেনিনের খেলোয়াড়রাও মাঠে এসে এই কিংবদন্তিকে অভিবাদন জানান।

শুধু একজন ফুটবলার নন, একটি প্রজন্মের আবেগ

মেসির বিদায় তাই কেবল একজন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে এটি শৈশব ও কৈশোরের একটি অধ্যায়ের শেষ।

যারা রাত জেগে মেসির খেলা দেখেছেন, তার অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন, গোলের পর উল্লাস করেছেন কিংবা হারের রাতে মন খারাপ করেছেন—তাদের কাছে মেসি শুধু একজন খেলোয়াড় নন।

তিনি একটি স্মৃতি। একটি আবেগ। একটি প্রজন্মের ফুটবল-পরিচয়।

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে মেসির অধ্যায় শেষ হয়েছে। কিন্তু তার ১০ নম্বর জার্সি, তার গোল, তার বাঁ পায়ের জাদু আর তার হাতে ২০২২ বিশ্বকাপ ওঠার দৃশ্য থেকে যাবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে।

বাংলাদেশি তারকাদের আবেগঘন বার্তাগুলোও যেন সেই কথাই বলছে—কিংবদন্তির বিদায় হতে পারে, কিন্তু কিংবদন্তিকে ঘিরে ভালোবাসার কখনো বিদায় হয় না।

সন্ধানী বার্তা/জেএন


সম্পর্কিত খবর