হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক নতুন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার চালুর পর দেশের আকাশসীমায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ওভারফ্লাইং চার্জ আদায়ও বেড়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ওভারফ্লাইং চার্জ থেকে সরকারের আয় হয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের সময়ের তুলনায় এ খাতে আয় বেড়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ।
এটিসির সদস্য এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম জানান, আগে শুধু ওভারফ্লাইং থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা আয় হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ৬৯ থেকে ৭১ কোটি টাকার কাছাকাছি হয়েছে।
তিনি জানান, ফ্রান্সের থেলাস কোম্পানির রাডার স্থাপনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯৪২ কোটি টাকা। বর্তমান হারে আয় অব্যাহত থাকলে আগামী ১৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে রাডার স্থাপনে ব্যয় করা অর্থ উঠে আসতে পারে।
নতুন প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি উড়োজাহাজের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে বলে জানান এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম। এতে ওভারফ্লাইং থেকে রাজস্ব আদায়ও কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ফরাসি প্রযুক্তির রাডার ও আধুনিক এটিসি টাওয়ার চালুর পর দেশের আকাশসীমায় নজরদারি ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপরও বিস্তৃত নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে।
নতুন এটিসি টাওয়ার ও আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকা থেকে প্রায় ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী উড়োজাহাজ শনাক্ত করা এবং নির্ধারিত ফি আদায়ের সক্ষমতাও বেড়েছে।
এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম বলেন, আগে বঙ্গোপসাগরের বিশাল অংশে রাডার কাভারেজ পর্যাপ্ত ছিল না। বর্তমানে চট্টগ্রাম রাডার ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার ফলে দক্ষিণ দিকে অনেক দূর পর্যন্ত নজরদারি করা যাচ্ছে। রাডারের বাইরে থাকা এলাকাতেও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যেসব আকাশপথ রয়েছে, সেসব রুট থেকেও ভবিষ্যতে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি