ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সাবেক সরকারের অপরাধমূলক, অমানবিক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অযোগ্য করে দিয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, দেশে ও বিদেশে কিছু মানুষ পুনর্মিলন বা সমঝোতার অজুহাতে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে সাফাই গাইছেন। এ ধরনের ধারণাকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তা দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও অকল্পনীয়।
তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব ছিল জনগণকে রক্ষা করা, সেটিকেই যারা পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা যায় না।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, অতীতের দুর্দশার কারিগরদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশ এখন প্রকৃত স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিশ্বপরিসরে সতর্কতার সঙ্গে দেশের অবস্থান নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
‘আমরা আর কারও টেবিলে বসার জন্য একটি চেয়ার চাইব না। বরং আমরা আমাদের নিজেদের টেবিল তৈরি করব এবং সেখানে বসার জন্য অন্যদের আমন্ত্রণ জানাব’—বলেন তিনি।
৫ আগস্টের পর জনগণ সরকারের কাছে পূর্ণ জবাবদিহিতা দাবি করছে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, একটি সরকারের বৈধতা আসে তার স্বচ্ছতা এবং জনগণের কঠোর নজরদারির কাছে নিজেকে সমর্পণের সদিচ্ছা থেকে। আইনের শাসনের প্রতি কঠোর আনুগত্য প্রমাণ না করে জনগণের আস্থা চাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা যেন সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
বিচার ব্যবস্থাকে শুধু ‘আজ্ঞাবহ’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার রক্ষক হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার।
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবক্ষয় রোধে শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, স্বৈরশাসকদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখে দিতে কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। বাংলাদেশে বর্তমানে সেই নতুন ভিত্তি স্থাপনের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সরকার কাঠামোগতভাবেই জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং স্বৈরতন্ত্রের অন্ধকার অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হবে।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি