খেলা

অধিনায়কের গায়ে ব্লেজার, মাথায় ব্যাগি ক্যাপ—বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন আবহে শুরু হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৮তম আসর। শনিবার (৩ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে নতুন সাজে টস করতে নামেন খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন।

টসের পর ব্যাট হাতেও দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ ছিল মিঠুনের সামনে। একই সুযোগ ছিল খুলনার তরুণ ব্যাটার কালাম সিদ্দিকী অলিনেরও। তবে দুজনের কেউই শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। মাত্র ১১ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে মিঠুনের, আর অলিন থেমেছেন ৯২ রানে।

শুরুতে দুই ওপেনারকে হারায় খুলনা

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনার। দলীয় ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। বরিশালের বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়ার বলে আউট হন এনামুল হক বিজয়। ২৪ বলে ১৬ রান করেন এই ওপেনার, তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। এরপর আরও ১৭ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন আজিজুল হাকিম তামিম। বরিশালের ডানহাতি পেসার শহীদুলের বলে বোল্ড হন বাঁহাতি এই ওপেনার। ৫টি চারের সাহায্যে ৫৫ বলে ৩১ রান করেন তিনি।

মিঠুন-অলিনের শতরানের জুটি

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মিঠুন ও অলিন। শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন খুলনার অধিনায়ক। নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। ৭৬তম বলে শহীদুলকে দারুণ এক পুল শটে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন মিঠুন। অন্য প্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অলিন। নিজের ১০১তম বলে মঈন খানকে সুইপ করে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনিও। সেই বাউন্ডারির সঙ্গে দুজনের জুটিও পূর্ণ করে ১০০ রান। এরপর দুজনই এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ২০৯ রানে গিয়ে ভাঙে তাদের দারুণ জুটি।

১১ রানের আক্ষেপ মিঠুনের

শহীদুলের বলে হুক শটে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছিলেন মিঠুন। কিন্তু টাইমিং ঠিক না হওয়ায় বল উঠে যায় মিড উইকেটের দিকে। সেখানে রুয়েল মিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান খুলনার অধিনায়ক। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থামে তার ইনিংস। ১২৬ বলে ১২টি চার হাঁকিয়ে ৮৯ রান করেন মিঠুন।

৮ রানে থামলেন অলিনও

মিঠুনের বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই সাজঘরের পথ ধরেন অলিন। বরিশালের অধিনায়ক ও খণ্ডকালীন পেসার ইফতিখার রহমান ইফতি নিজের প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই অলিনকে বোল্ড করেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থামেন তরুণ এই ব্যাটার। ১৬৮ বলে ৯২ রানের ইনিংসে ৬টি চার হাঁকান তিনি। বোল্ড হওয়ার পর কিছুটা হতাশ হয়ে উইকেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় অলিনকে।

ফিফটির আক্ষেপ সোহানের

৩১ রানের ব্যবধানে মিঠুন ও অলিনকে হারানোর পর নুরুল হাসান সোহান ও আফিফ হোসেন ধ্রুব জুটি গড়েন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন সোহান। দ্রুত এগোচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার ছয় ওভার আগে সেই সুযোগও হাতছাড়া করেন তিনি। রুয়েল মিয়ার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে সংযোগ ঘটাতে পারেননি সোহান। বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। আউট হওয়ার আগে ৭টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ বলে ৪৭ রান করেন তিনি। শেষ দিকে সামিউন বশির রাতুলকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময় পার করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। দিন শেষে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৮ রান সংগ্রহ করেছে খুলনা। বরিশালের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রুয়েল মিয়া। তিনি নিয়েছেন ৩টি উইকেট। একই দিনে মিঠুন ও অলিনের ব্যাটে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুজনেরই ইনিংস থেমেছে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। ফলে জাতীয় লিগের নতুন আসরের প্রথম দিন খুলনার স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহের সঙ্গে জুড়ে থাকল জোড়া সেঞ্চুরি-আক্ষেপও।

সন্ধানী বার্তা/এসএ

 


সম্পর্কিত খবর