সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবর তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গে মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। মিষ্টিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছিলেন তারেক রহমান। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত কয়েক বছরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাটি ঘটে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। ওই ঘটনায় মুখোশধারী ব্যক্তিদের একটি দল হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এ ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। ১ অক্টোবর ফেনীর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সবার জন্য আইন সমভাবে প্রয়োগের কথা বলেন।
মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনাটি দলের ভেতরে শৃঙ্খলা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে দলীয় ব্যবস্থার বিষয়টি সামনে এনেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নির্ধারণের গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি