আন্তর্জাতিক

নাসার নতুন ক্রু পৌঁছাল মহাকাশ স্টেশনে

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছে চার সদস্যের নতুন একটি মহাকাশচারী দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তারা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে ডকিং সম্পন্ন করেন। সেখানে তারা প্রায় ছয় মাস অবস্থান করবেন।

নতুন ক্রু সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ।

৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে আইএসএসে পৌঁছাল ক্যাপসুল

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ক্রু-১৩ মিশনের চার সদস্যকে নিয়ে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।

উৎক্ষেপণের ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর স্পেসএক্সের ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়।

নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো মার্কিন মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের রেকর্ড।

নাসা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বা ২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার বেগে মহাকাশে ছুটতে থাকা ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে আইএসএসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, ড্রাগনের ‘হার্ড ক্যাপচার’ সম্পন্ন হয়েছে।

এরপর ক্যাপসুলের হ্যাচ বা দরজা খুলে নতুন চার সদস্য চাপ-নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করবেন।

লিকের কারণে পিছিয়েছিল উৎক্ষেপণ

ক্রু-১৩ দলের মূলত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইএসএসে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি লিক ধরা পড়ায় তাদের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর আইএসএসে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা মহাকাশ স্টেশনের অবস্থান ও উৎক্ষেপণের সময় ক্যাপসুলটি স্টেশন থেকে কতটা দূরে ছিল—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করা সর্বশেষ একটি ক্রুকে আইএসএসে পৌঁছাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

পুরোনো ক্রুর কাছ থেকে দায়িত্ব নেবে নতুন দল

ক্রু-১৩ দল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা বর্তমান ক্রু-১২ দলের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে।

ক্রু-১২ দলের সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ।

আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্রু-১২ দলের সদস্যরা আগামী সোমবারের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন।

২০৩০ সালের দিকে শেষ হতে পারে আইএসএসের যাত্রা

প্রায় ২৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটিতে নিয়মিতভাবে মানুষের বসবাস ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলছে। তবে পুরোনো হয়ে যাওয়া এই মহাকাশ স্টেশনকে ২০৩০ সালের দিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে পৃথিবীর কোনো একটি মহাসাগরে পতন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তিতে টানাপোড়েন তৈরি হলেও আইএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

নতুন ক্রু-১৩ দলের ছয় মাসের মিশনেও মহাকাশ গবেষণা ও স্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর