আন্তর্জাতিক

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন কোনো নারী। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগর-পরিকল্পনামন্ত্রী ও মারাকেশের মেয়র ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী এই আইনজীবী একই সঙ্গে দেশটির অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টির (পিএএম) শীর্ষ নেতাদের একজন।

তার নিয়োগের মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বে দ্বিতীয় নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির গড়লেন ফাতিমা। এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নাজলা বুদেন।

‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি নিজের নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু তার নিজের জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্বও ফাতিমার ওপর দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পিএএমের

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মরক্কোয় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে ফাতিমার দল পিএএম ৩৯৫ আসনের নিম্নকক্ষে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন অর্জন করে। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসন থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে দলটি। ফলে সরকার গঠনে পিএএমকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে হবে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার চার দিন পর ফাতিমাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকেই রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন।

সামনে জোট সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমার প্রথম বড় দায়িত্ব হবে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট তৈরি করা।

পিএএম বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে কয়েকটি দল ইতিমধ্যে বিরোধী অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবং ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট।

নির্বাচনে পিএএমের পর ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই) ৬৬টি এবং ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন পেয়েছে। পিজেডি পেয়েছে ৫৪টি আসন।

মেয়র থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে

ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি পেশায় একজন আইনজীবী। ২০০৯ সালে তিনি প্রথমবার মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন এবং শহরটির প্রথম নারী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে ২০২১ সালের নির্বাচনের পর আবারও মারাকেশের পৌর পরিষদের নেতৃত্বে ফেরেন।

২০২১ সালের অক্টোবরে জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। সে সময় তাকে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন, আবাসন ও নগরনীতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পিএএমের রাজনৈতিক নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন তিনি।

২০৩০ বিশ্বকাপ সামনে বড় বিনিয়োগ

নতুন সরকারের সামনে আরেকটি বড় দায়িত্ব হলো ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মরক্কোর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার শেষ পর্যায়ের কাজ তদারকি করবে নতুন সরকার। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, মজুরি ও তরুণদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ মোকাবিলার বিষয়ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় থাকবে।

আরব বিশ্বে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী

ফাতিমা জাহরা আল মানসুরির আগে আরব বিশ্বের কোনো দেশে সরকারপ্রধান হওয়া সর্বশেষ নারী ছিলেন তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন। ২০২১ সালের অক্টোবরে তিনি তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

ফলে ফাতিমার নিয়োগ মরক্কোর পাশাপাশি আরব বিশ্বের রাজনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সামনে এখন সবচেয়ে তাৎক্ষণিক কাজ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট তৈরি করা। এরপর নতুন সরকারকে ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক সংস্কার ও তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সন্ধানী বার্তা/জেএন


সম্পর্কিত খবর