দেশজুড়ে

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে গাছে উঠে জীবিকা চালান একরামুল

শৈশবে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন একরামুল। তবে প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। জীবিকার তাগিদে গাছে ওঠা শিখে এখন গাছ কাটার কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

একরামুলের বাবা আবদুল করিম বলেন, ‘ছেলে ছোটবেলায় পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হয়েছে। পরে আমি তাকে বলেছি, বাবা, জীবনে পাঁচজনের কাছে হাত পেতে খাওয়ার চেয়ে নিজের কাজ করে খাওয়া ভালো। এরপর সে গাছে ওঠা শিখেছে। এখন গাছ কাটার কাজ করেই সংসার চালায়।’

একরামুলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেও ছেলেকে সুস্থ করতে পারিনি। চিকিৎসার জন্য অনেক জায়গায় নিয়েছি। তবুও ভালো হয়নি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে এখন সে গাছ কাটার কাজ করে।’

স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, তিন ভাই ও এক বোনকে নিয়ে একরামুলের পরিবার। দুই ভাইয়ের আলাদা সংসার। বোনকে বিয়ে দেওয়া হলেও তার সংসার টেকেনি। ফলে পরিবারের বড় একটি দায়িত্ব এখন একরামুলের কাঁধে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও একরামুলের গাছে ওঠা-নামার দৃশ্য আশপাশের মানুষের কাছে বিস্ময়ের। একই সঙ্গে তাকে নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে স্থানীয়দের। কারণ গাছ কাটার কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘একরামুল যতক্ষণ গাছের ওপর থাকে, ততক্ষণ আমরা চিন্তায় থাকি। গাছ কাটা বড় কথা নয়, কিন্তু যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন তো বড় বিপদ হয়ে যাবে। আমরা তাকে সাবধান করি। কিন্তু সে বলে, আল্লাহ আমার সহায় আছেন, আমার কোনো ভয় নেই।’

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার জীবনের গতি থামিয়ে দিতে পারেনি। নিজের আত্মমর্যাদা ও কর্মক্ষমতার ওপর ভর করে প্রতিদিন জীবনসংগ্রামে নামেন একরামুল। গাছ কাটার আয় দিয়েই চালান সংসার।

একরামুলের স্বপ্ন, একদিন সংসারের অভাব ঘুচবে। সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করবেন। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর পরিবারে ফিরবে স্বস্তি—এই আশাতেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর