মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিকদের সরকারি ভাতা বিতরণে নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে বকেয়া টাকা পরিশোধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভাতাভোগী শ্রমিকেরা।
বুধবার এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শ্রমিকেরা।
অভিযোগপত্রে শ্রমিকেরা জানান, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার যে ভাতা দেয়, তা ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। গত ২০ আগস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাজদিহি চা-বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভাতা বিতরণ করেন। এ সময় নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণের কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে তাদের টিপসই ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে সেখানে ভাতার পুরো অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা।
লিখিত অভিযোগে ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজু রায়, রাম কুমারী নুনিয়া ও সবিতা বাউরীর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকি রায় বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য টাকা দিয়েছেন। কেন তারা সেই টাকা আত্মসাৎ করে খাবেন? চা শ্রমিকদের মতো অসহায় জনগোষ্ঠীর ভাতা বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম আমাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।’
মাজদিহি চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি সাধন কর্মকার বলেন, ‘চা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরকারি বরাদ্দের টাকা থাকা সত্ত্বেও এজেন্টের লোকজন ভাতা কম দিচ্ছেন। সরকার যে ভাতা দেয়, সেটি শ্রমিকদের প্রাপ্য। প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীর টাকা কেন কম দেওয়া হবে, তা আমরা জানতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘টাকা পাওয়ার কথা প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টাকা, অথচ তারা পাচ্ছেন ৩ হাজার টাকা। পঞ্চায়েতের অ্যাডহক কমিটির লোকজন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংক এশিয়ার জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমদ ইয়ামির বলেন, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন, তবে লিখিত অভিযোগ পাননি। ভাতাভোগীদের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংখ্যা তত নয় বলেও জানান তিনি। অনেকের টাকা বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমেও দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জানতে আগামীকাল মাজদিহি চা-বাগানে সরেজমিনে যাব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি