আন্তর্জাতিক

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়েও নতুন প্রস্তাব

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়ে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রোমে জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব শাখার এক সমাবেশে এসব প্রস্তাবের কথা জানান মেলোনি। আগামী ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিষয়গুলো ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মেলোনি বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে ‘গুরুতর সমস্যা’ রয়েছে, তাদের জন্য ইতালীয় ভাষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হবে।

রোমে আয়োজিত ‘জিওভেন্তু নাজিওনালে’ জাতীয় উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি বলেন, যারা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের দেশটির ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং স্থানীয় নিয়মকানুনকে সম্মান করতে হবে।

প্রস্তাব কার্যকর করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন

সরকার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো অনুমোদন করলেও সেগুলো আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার। তবে ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

এরই মধ্যে ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) নামে আরও ডানপন্থি একটি দল স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। জুলাইয়ে দলটি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

বোরকা-নিকাব নিয়ে ইতালির বর্তমান আইন

বোরকা এমন একটি পোশাক, যাতে নারীর পুরো শরীর ও মুখ ঢাকা থাকে। সাধারণত চোখের সামনে জালের মতো কাপড় থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকলেও চোখ দেখা যায়।

ইতালিতে বর্তমানে বোরকা বা নিকাব সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের একটি আইনি সিদ্ধান্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়। সেখানে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরার সুযোগ রাখা হলেও পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে মেলোনির ক্ষমতাসীন জোটের অংশ লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুতে মুখ ঢাকা পোশাক নিয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধের একটি বিল জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে খেলাধুলার অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে এমন হেলমেট বা পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়েও নতুন প্রস্তাব

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর আইনি সীমা আরোপের কথাও জানিয়েছেন মেলোনি।

তবে ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। একটি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সীমা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে মেলোনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী। ফলে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও একীভূতকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সংসদে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর