নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের কয়েকটি অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দেয়। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। এতে সড়কের মূল অংশের পাশের জায়গা ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
২০২১-২২ অর্থবছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলতি বছর শেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় দুটি ব্রিজের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের প্রায় ১৫টি স্থানে কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কোথাও সড়কের পোল উল্টে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের পরপরই ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ধসের প্রকৃত কারণ বা নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছেন অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি