বিবিধ

ইবিতে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ, লিখিত অভিযোগে অনীহা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বহিরাগত ও বখাটেদের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসের নির্জন সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, স্থানীয় বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, পিছু নেওয়া, অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভয়, সামাজিক সংকোচ ও অভিযুক্তদের পরিচয় না জানার কারণে অনেকেই এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন না। ফলে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরসহ ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় বসবাস করায় প্রতিদিন যাতায়াতের পথে তাদের নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও বহিরাগতদের গা ঘেঁষে বসার চেষ্টা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ রয়েছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শেখপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে এবং একপর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে হাত দেন। আরেক শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের ভেতরে কয়েকজন তাঁকে পিছু নিয়ে শিস দিতে দিতে উত্ত্যক্ত করেন। ভয়ে একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান।

আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২৩ জুন পরীক্ষা শেষে মেসের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁকে জাপটে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে মেসের ম্যানেজার এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তি চলে যান। একই ব্যক্তি আরও কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের কমিউনিটি সেন্টার থেকে থানার গেট পর্যন্ত সড়কটিও নির্জন হওয়ায় সন্ধ্যার পর সেখানে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধকল্পে কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের ধরন অনুযায়ী হাইকোর্টের নীতিমালা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

তিনি জানান, কমিটির সদস্য-সচিব ইব্রাহিম খলিলের কাছ থেকে অভিযোগের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীদের ০১৯২৪৫৫২৭৫৪ ও ০১৮৭৫০৯০১২৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিযোগ করার মতো পরিবেশ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে সচেতনতা বাড়াতে নবীন শিক্ষার্থীদের নির্দেশিকা দেওয়া, বিভিন্ন ভবনে অভিযোগের প্রক্রিয়া জানিয়ে ব্যানার টানানো এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর