দেশে ৫জি যুগ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনো সবার হাতে পৌঁছেনি এই প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা। সীমিত পরিসরে ৫জি চালু হলেও দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ পেতে আরও সময় লাগবে। অবকাঠামো, স্পেকট্রাম, ৫জি-সমর্থিত ডিভাইস এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে এর বিস্তার।
বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু হয়। প্রথম দিকে সীমিত কিছু এলাকায় সেবা দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের জুন নাগাদ দেশের ৪৪০টির বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)। তবে দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ৫জি চালুর জন্য এখনো বেশ কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন।
৫জি চালুর অন্যতম বড় বিষয় হলো পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো। বিশেষ করে কম-ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিস্তৃত এলাকায় ৫জি কভারেজ দিতে গুরুত্বপূর্ণ। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে; এটি পাওয়া গেলে গ্রামাঞ্চলসহ বড় এলাকায় তুলনামূলক কার্যকরভাবে ৫জি বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে অপারেটরদের জন্য ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরিতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দেশে ৫জি-সমর্থিত স্মার্টফোনের ব্যবহারও এখনো সীমিত। ফলে শুধু নেটওয়ার্ক তৈরি করলেই হবে না, ব্যবহারকারীদের হাতেও থাকতে হবে ৫জি ডিভাইস।
এখন পর্যন্ত ৫জি সেবা মূলত নির্দিষ্ট এলাকা ও সীমিত পরিসরে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রাজধানী বা বড় শহরের কিছু এলাকায় ৫জি ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য ৪জি এখনো প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক।
এ কারণে ৫জি চালু হয়েছে মানেই দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারী এখনই ৫জি গতির ইন্টারনেট পাবেন—এমনটি নয়।
৫জির সবচেয়ে আলোচিত সুবিধা হলো দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং কম লেটেন্সি। ফলে বড় ফাইল দ্রুত ডাউনলোড, উন্নত মানের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং ভিডিও কনফারেন্সে আরও ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।
তবে এর বড় প্রভাব শুধু মোবাইল ইন্টারনেটেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্পকারখানা ও স্মার্ট সিটির মতো ক্ষেত্রেও ৫জি প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। পূর্ণাঙ্গ ৫জি বিস্তারের জন্য এসব খাতের প্রস্তুতিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী ৫জি কভারেজ নির্ভর করছে স্পেকট্রাম বরাদ্দ, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, অপারেটরদের বিনিয়োগ এবং ৫জি ডিভাইসের সহজলভ্যতার ওপর।
অর্থাৎ, বাংলাদেশে ৫জি শুরু হয়ে গেলেও ‘সবার হাতে ৫জি’ পৌঁছাতে আরও কয়েক ধাপ পার হতে হবে। আপাতত সীমিত এলাকায় সেবা সম্প্রসারণ চলছে; পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো ও স্পেকট্রাম সুবিধা বাড়লে ৫জি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন শুধু বড় শহর নয়—দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ৫জি নেটওয়ার্ক সহজলভ্য হবে এবং সাধারণ মানুষের হাতে সাশ্রয়ী ৫জি ফোন থাকবে।
সন্ধানী বার্তা/এসএ