লাইফস্টাইল

ডিজিটাল ডিটক্স: সপ্তাহে একদিন ফোন থেকে দূরে থাকলে কী হয়?

সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত—দিনের বড় একটা সময় এখন স্মার্টফোনের পর্দায় কাটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা কাজের প্রয়োজনে ফোন ছাড়া চলা কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। তবে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য ফোন থেকে দূরে থাকা বা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ মানসিক স্বস্তি ও দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। বরং নির্দিষ্ট সময় ফোনের ব্যবহার কমিয়ে বাস্তব জীবনের কাজ, ঘুম ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।

মনোযোগ বাড়তে পারে

বারবার ফোনের নোটিফিকেশন, মেসেজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আপডেট মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন থেকে দূরে থাকলে অন্য কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

বিশেষ করে পড়াশোনা, বই পড়া, রান্না বা শখের কোনো কাজে ফোন দূরে রাখলে কাজটি শেষ করার দিকে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে।

কমতে পারে মানসিক চাপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনযাপন, সাফল্য বা নানা ধরনের নেতিবাচক খবর নিয়মিত দেখার কারণে অনেকের মধ্যে অস্থিরতা বা মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। কিছু সময় এসব কনটেন্ট থেকে বিরতি নিলে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

তবে ডিজিটাল ডিটক্স মানেই মানসিক চাপের সব সমস্যার সমাধান নয়। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ বা মন খারাপ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ঘুমের জন্যও উপকারী হতে পারে

রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করার অভ্যাস ঘুমের রুটিনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিছানায় শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার অভ্যাস ঘুমানোর সময় পিছিয়ে দিতে পারে।

সপ্তাহে একদিন হলেও রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর ফোন দূরে রাখার অভ্যাস ঘুমের প্রস্তুতির জন্য ভালো একটি রুটিন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে সময় বাড়বে

ফোন হাতে থাকলে একই ঘরে বসেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় কমে যেতে পারে। ডিজিটাল ডিটক্সের দিনে ফোন এক পাশে রেখে পরিবারের সঙ্গে গল্প করা, একসঙ্গে খাবার খাওয়া কিংবা বাইরে হাঁটতে যাওয়ার মতো কাজ করা যায়।

এতে পারিবারিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের জন্য সময় বের করা সহজ হতে পারে।

পুরোনো শখে ফিরতে পারেন

ফোন ব্যবহারে যে সময় চলে যায়, সেটি বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, রান্না কিংবা শরীরচর্চার মতো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকের পুরোনো কোনো শখও এভাবে আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসতে পারে।

কীভাবে শুরু করবেন?

একদিনের জন্য পুরোপুরি ফোন বন্ধ রাখা অনেকের কাছেই কঠিন হতে পারে। তাই শুরুতে কয়েক ঘণ্টা দিয়ে শুরু করা যায়। যেমন—সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক ঘণ্টা অথবা রাতে ঘুমানোর আগে দুই ঘণ্টা ফোন ব্যবহার না করা।

এরপর সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন বা কয়েক ঘণ্টাকে ‘নো-ফোন টাইম’ হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে। জরুরি ফোনকলের প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্য বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখাও ভালো।

ফোন থেকে দূরে থাকা মানেই পুরোপুরি অফলাইন নয়

ডিজিটাল ডিটক্সের উদ্দেশ্য প্রযুক্তিকে শত্রু বানানো নয়। বরং প্রযুক্তির ব্যবহার যেন দৈনন্দিন জীবন, ঘুম, কাজ, পড়াশোনা ও সম্পর্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ না নেয়—সেটি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

তাই সপ্তাহে একদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য ফোন দূরে রেখে নিজের জন্য সময় বের করার অভ্যাস দিয়েই শুরু করতে পারেন। নিয়মিতভাবে এমন বিরতি নেওয়া গেলে ডিজিটাল জীবনের সঙ্গে বাস্তব জীবনের একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করা সহজ হতে পারে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর