অর্থনীতি

মার্জিন বিধিমালার সংশোধনী গেজেট প্রকাশ, ঋণের শর্তে বড় পরিবর্তন

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বিধানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সব শেয়ার ও সিকিউরিটির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজের ইকুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।

তবে মার্জিন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবন বিমা ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের ট্রেইলিং পিই ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির ইপিএস ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইয়ের পরিবর্তে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি অথবা এনএভি ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিন ঋণ নিতে হলে গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। পাশাপাশি ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার, এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে। মূল বাজারের ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

নতুন নিয়মে পোর্টফোলিওর ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে মার্জিন কল দিতে হবে। আর ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। তবে গ্রাহককে লিখিতভাবে, ই-মেইল, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা প্রয়োজন হলে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

এ ছাড়া কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একটি নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করা যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। একই সঙ্গে মার্জিন অর্থায়নের অর্থ শুধু মার্জিন-যোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

নতুন বিধিমালায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে বছরে অন্তত চারটি সভা করতে হবে।

এ ছাড়া ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়ন চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শরিয়াহ সুপারভাইজারি বোর্ড বা শরিয়াহ উপদেষ্টার সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনা করতে হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষের জন্যই নতুন কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর