
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হবে ২১ আগস্ট। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ইতিহাস গড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফুটবল লিগ। এবারই প্রথম উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৯টি ক্লাব নতুন স্থায়ী প্রধান কোচের অধীনে মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমের শুরুতে এত সংখ্যক ক্লাবের নতুন কোচ নিয়ে মাঠে নামার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, বোর্নমাউথ, নটিংহাম ফরেস্ট, ক্রিস্টাল প্যালেস, ফুলহাম ও ইপসউইচ টাউন—এই ক্লাবগুলোতে কোচ পরিবর্তনের ফলে লিগজুড়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিভারপুলের দায়িত্ব পেয়েছেন আন্দোনি ইরাওলা। ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। চেলসির ডাগআউটে এসেছেন জাবি আলোনসো। বোর্নমাউথের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মার্কো রোজকে, নটিংহাম ফরেস্টের কোচ হয়েছেন অলিভার গ্লাসনার, ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দিয়েছেন পিয়ের সাজ, ফুলহামের দায়িত্ব নিয়েছেন আলভারো আরবেলোয়া এবং ইপসউইচ টাউনের নতুন কোচ গ্যারি ও’নিল। নিউক্যাসল ইউনাইটেডও মাটিয়াস ইয়াসলাকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৬–১৭ মৌসুমে ৮টি ক্লাব নতুন কোচ নিয়ে মৌসুম শুরু করেছিল, যা এতদিন সর্বোচ্চ ছিল। ওই মৌসুমেই ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন পেপ গার্দিওলা এবং চেলসির কোচ হয়ে অভিষেক মৌসুমেই শিরোপা জিতেছিলেন আন্তোনিও কন্তে।
বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী কোচ আর্সেনালের মিকেল আরতেতা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখন লিগের সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোচদের একজন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একই ক্লাবের দায়িত্বে আছেন শুধু আতলেতিকো মাদ্রিদের দিয়েগো সিমিওনে।
নতুন কোচ মানেই নতুন কৌশল, নতুন পরিকল্পনা ও নতুন উদ্দীপনা। তাই মৌসুমের শুরুতে দলগুলোর পারফরম্যান্স কেমন হয়, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনী সপ্তাহেই নতুন কোচদের অধীনে থাকা কয়েকটি দলের মুখোমুখি লড়াইও থাকছে, যা মৌসুমের শুরুতেই বাড়তি আকর্ষণ যোগ করবে।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস বলছে, ১৯৯২ সালে লিগের যাত্রা শুরুর পর এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন কোচ নিজেদের অভিষেক মৌসুমেই শিরোপা জিততে পেরেছেন। ফলে এবার নতুন দায়িত্ব পাওয়া কোচদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি প্রত্যাশার চাপও থাকবে অনেক বেশি।
সন্ধানী বার্তা/এসএ





