বুধবার , ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইন

পারিবারিক আদালতে মামলা জট

পারিবারিক আদালতে সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত এবং মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীনে উদ্ভুত অন্যান্য বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মাত্র তিনটি পারিবারিক আদালত ছিল। সেটি এখন বেড়ে উন্নীত হয়েছে ১৪টিতে। কিন্তু মামলার জট কমেনি, উল্টো বেড়েছে। আদালতে ১১ হাজার ৯৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একেকটি আদালতে গড়ে ৮৫২টি মামলা বিচারাধীন। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির অবসান হচ্ছে না।

পারিবারিক আদালতে মামলা বাড়ার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারহানা জামান বলেন, ‘সমাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। নারীদের শিক্ষা ও তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন নিজের ইচ্ছাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। আপস করার মানসিকতা কমে গেছে। এতে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব কমছে।’

আদালত সূত্র জানায়, বর্তমানে পারিবারিক আদালত-১-এ এক হাজার ২৭টি, আদালত-২-এ এক হাজার ৭৮৩টি, আদালত-৩-এ এক হাজার ১৮টি, আদালত-৪-এ ২৯১টি, আদালত-৫-এ ৫১টি, আদালত-৬-এ ২ হাজার ৮৭০টি, আদালত-৭-এ ৯৯৬টি, আদালত-৮-এ এক হাজার ১০৪টি, আদালত-৯-এ ৩৯২টি, আদালত-১০-এ ৭৬৭টি, আদালত-১১-এ ৬২৯টি, আদালত-১২-এ ১৫২টি, আদালত-১৩-এ এক হাজার ৮৭টি এবং আদালত-১৪-এ ৫৯৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পারিবারিক বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য পাঁচটি আপিল আদালতও রয়েছে। বিচারকরা ছুটিতে থাকায় বা পদ শূন্য থাকার কারণে প্রায়ই মামলা বিলম্বিত হয়। অন্যদিকে বিবাদীরা বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করতে বারবার সময়ের আবেদন করেন, যা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়। একটি মামলা শেষ করতে জীবন থেকে হারিয়ে যায় এক-দুই দশক। সময় বেশি লাগে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলাগুলোতে। বিবাদী পক্ষ উচ্চ আদালতের দোহাই দিয়ে সময় ক্ষেপণ করে। মামলার দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য উভয়পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এম/এএইচ


সম্পর্কিত খবর