
সারা দেশে পুলিশের ইউনিটগুলোতে ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে। যদিও এসবের ব্যবহার হচ্ছে না বললেই চলে। অপারেশনাল কাজে ক্যামেরা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সদর দপ্তর থেকে অভিযান ও মোবাইল ডিউটিতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও গা ছাড়াভাব ইউনিটগুলোর।
এদিকে, পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণের তথ্য প্রেরণ এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। বডি ওর্ন ক্যামেরা পিটি-প্যারেডে ব্যবহার করলে অডিও-ভিডিও সংরক্ষণের পাশাপাশি পিটি-প্যারেড চলাকালীন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে সরাসরি মনিটর করতে পারবেন। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়, পিটি-প্যারেড চলাকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই) পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র), এসআই (সশস্ত্র) কর্তৃক বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বডি ওর্ন ক্যামেরা বরাদ্দকরণের ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুসরণ এবং ক্যামেরা ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই চিঠিতে সব জেলা ও মেট্রোপলিটনে বরাদ্দকৃত ক্যামেরা থেকে পুলিশ লাইন্সের আরআইয়ের অনুকূলে একটি করে বডি ওর্ন ক্যামেরা বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) ক্ষেত্রে জেলায় বরাদ্দকৃত ক্যামেরা থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আরআই ও আরআরএফের অনুকূলে একটি করে বডি ওর্ন ক্যামেরা (সিমসহ) বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বডি ওর্ন ক্যামেরা যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে দিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে বডি ওর্ন ক্যামেরা হারানো কিংবা কোনো ক্ষতি হলে দায়দায়িত্ব ব্যবহারকারীর ওপর বর্তাবে।
একাধিক পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন থেকেই বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে পিটি-প্যারেডে। তবে ক্যামেরা অপারেটিংয়ের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সাধারণত জেলা, মহানগর পুলিশ, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএিন) মতো বিশেষায়িত ইউনিটের রিজার্ভ ফোর্স ভোর ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত পিটি-প্যারেড (শারীরিক কসরত) করেন। এতে ফোর্সের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সারা দেশের সব থানায় ৫০টির অধিক ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে অপারেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্যামেরার ব্যাটারি ৬ ঘণ্টা সাপোর্ট দেবে। এ জন্য প্রতি সদস্যের কাছে একাধিক ব্যাকআপ ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। একটি ক্যামেরা ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইভে রেখে দেখা হয়েছে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা ধরা পড়েছে, সেসব সমাধান করা হচ্ছে।
এম/এএইচ



