বুধবার , ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থনীতি

বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নের চাপ

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১১ জুন সংসদে সরকারের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জুন মাসজুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতের বরাদ্দ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৩০ জুন সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস হতে পারে। বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা এবং বাস্তবায়নের চাপ দুটিই রয়েছে অর্থমন্ত্রীর ওপর। এখন দেখতে হবে তিনি সেটা কীভাবে সামলান।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি। সভায় চলতি (২০২৫-২৬) ও নতুন অর্থবছরে সরকারের আয়-ব্যয়, কর কাঠামো, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, ঘাটতি বাজেট, মূল্যস্ফীতি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, বিনিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ঋণের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প, সৃজনশীল অর্থনীতি, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, খাল কাটা কর্মসূচি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বা ব্যয়ের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে ৬ লাখ ৪ হাজার টাকা, করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আসবে ৬৬ হাজার কোটি টাকা এবং নন এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরেও বাজেটের আকারের তুলনায় ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি। ঘাটতি মিটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।

এবারের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া এবারের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ৩ লাখ কোটি টাকা।

বাজেটের মাধ্যম ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে দেখছে সরকার। যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের যাত্রায় কোনো গোষ্ঠীর বিশেষ সুবিধার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হবে। এই ভিশনের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনৈতির গণতন্ত্রায়ণ (ইকোনমিক ডেমোক্রাটাইজেশন), যেখানে অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। এক্ষেত্রে দলটি ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে।

সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা ঠিক করেছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবিত এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্প সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ৮০টি এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এম/এএইচ


সম্পর্কিত খবর