জাতীয়

সফল এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া, আকাশ প্রতিরক্ষায় সক্ষমতার বার্তা

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে আরও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আকাশ প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত কক্সবাজার এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) বিমান বাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিট এই মহড়া পরিচালনা করে। মহড়া সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সফল মহড়া পেশাদারিত্বের ইতিবাচক প্রতিফলন
একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর শক্তি শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এসব সরঞ্জাম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রস্তুতির একটি ইতিবাচক দিককে তুলে ধরেছে।

  • কক্সবাজারে লাইভ ফায়ারিং প্রত্যক্ষ করলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রত্যয়

মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব
মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ, আধুনিকায়নকে কেবল সরঞ্জাম সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশসীমার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উপযুক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বিত প্রস্তুতি অপরিহার্য। এফএম-৯০-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের অনুশীলন নিয়মিত পরিচালিত হলে সদস্যদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মহড়া পরিদর্শনকালে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল শরিফুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম মাহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঘাঁটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ভিত্তি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম এবং এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে নতুন সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি উন্নয়নে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে সফল এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রমে একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা। আধুনিকায়ন, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বিত চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার পথনকশা প্রস্তুত হচ্ছে।

সন্ধানী বার্তা/এএএএমকে


সম্পর্কিত খবর