বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৬ ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পরপরই একটি চাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পান পাইলট। বিষয়টি জানার পর তিনি ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান। এরপর উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
জ্বালানি কমাতে আকাশে চক্কর
জরুরি অবতরণের আগে উড়োজাহাজটির ওজন কমানোর জন্য জ্বালানি হ্রাসের প্রয়োজন হয়। এ জন্য পাইলটকে আকাশে কয়েকবার চক্কর দিতে হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার এলাকার আকাশে কয়েকবার চক্কর দেয়।
এ সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ৬ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ১৮৮ নট গতিতে উড়ছিল। নিরাপদ অবতরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জ্বালানি কমানো এবং বিমানবন্দরের জরুরি সেবাগুলোকে প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উড়োজাহাজটির পেছনের চাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অবতরণের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। ফলে পাইলট ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
আধা ঘণ্টা বন্ধ ছিল শাহজালালের রানওয়ে
জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজের ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। ঢাকা টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রানওয়েটি বন্ধ ছিল।
এ সময় বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত রাখা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজটির নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা এবং রানওয়েতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বজায় রাখাই ছিল এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।
ঘটনাটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি মোকাবিলার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। তবে কী কারণে উড়োজাহাজটির পেছনের চাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলেও উড়োজাহাজের যাত্রী ও ক্রুদের সবাই নিরাপদ রয়েছেন।
সন্ধানী বার্তা/এসএ