বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময়ও বিশ্ববাজারে দাম সাময়িকভাবে কমেছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার তা বেড়ে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রভাবেও দাম কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
তিনি বলেন, তেলের দাম ৮৯ ডলারে নেমেছে বলেই এটি স্থায়ীভাবে থাকবে—এমনটা এখনই ধরে নেওয়া যায় না। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম পর্যায়ে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও সরকার অবশ্যই দাম সমন্বয় করবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং বিনিয়োগ কমে যায়। বিনিয়োগ কমলে কর্মসংস্থানও কমে আসে। এতে মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও কমে যায়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এ পরিস্থিতি সরকারের জন্য ভালো কিছু নয়। সরকার বিষয়টি নিয়ে সংবেদনশীল। বিশ্ববাজারে তেলের দামের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আবারও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম পর্যায়ে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।
সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি