সাইবেরিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে ল্যাব টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর পর সম্ভাব্য নিউমোনিক প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে’ পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ল্যাবকর্মীর মৃত্যুর পর উদ্বেগ
রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করতেন ২০-এর কোঠার শেষ দিকে বয়সী এক নারী। রুশ গণমাধ্যমে তাঁর নামের প্রথম অংশ দারিয়া বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তিনি মঙ্গোলিয়া সীমান্তবর্তী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে গিয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ ‘অজ্ঞাত কারণে সৃষ্ট নিউমোনিয়া’ উল্লেখ করেছেন। তাঁর শরীরের জৈবিক নমুনায় ওই নারীর কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লেগের জীবাণু থাকা একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার পর অথবা বন্য ইঁদুরের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে প্লেগের সংক্রমণ রয়েছে—এমন এলাকায় মাঠপর্যায়ে যাওয়ার পর ওই নারী অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন।
নজরদারি করছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওই গবেষণাগারের একজন কর্মী সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ গবেষণাগারের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিয়ে রাশিয়া কোয়ারেন্টিনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করছে। তবে এ মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে তিনি ক্রেমলিনের সঙ্গে কথা বলেননি বলেও জানান।
গবেষণাকেন্দ্রে জরুরি পরিস্থিতি নেই
ইরকুতস্কের গভর্নর জানিয়েছেন, মৃত ল্যাব টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর পর গবেষণাকেন্দ্রটির আর কোনো কর্মী চিকিৎসা নিতে যাননি।
রাশিয়ার ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, একটি জৈবনিরাপত্তা দল গবেষণাকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছে। সেখানে কোনো জরুরি পরিস্থিতি পাওয়া যায়নি।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে রসপোট্রেবনাদজরের সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রুশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ওই নারীর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্লেগ কতটা ভয়ংকর?
প্লেগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে মারমটের মতো ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।
১৪ শতকে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে ইউরোপে ভয়াবহ প্লেগ মহামারি ছড়িয়ে পড়ে, যা ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত। এতে ইউরোপের বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলুলার মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক সাইমন ক্লার্ক বিবিসিকে বলেন, নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসা না করা হলে অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, নিউমোনিক প্লেগ একজন মানুষের কাছ থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। এ কারণেই রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞের মতে, প্লেগ শত শত বছর আগেই পৃথিবী থেকে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়নি। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এটি এখনো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
সন্ধানী বার্তা/এসএ