দেশজুড়ে

কমলনগর হাসপাতালে দুই এক্স-রে মেশিনই তালাবদ্ধ, ভোগান্তিতে রোগীরা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার এ সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে সেবা।

হাসপাতালে দুটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলো বছরের পর বছর তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে রয়েছে। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে করইতলা এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে চাহিদা বিবেচনায় ২০১৫ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

২০০২ সালে হাসপাতালে প্রথম একটি এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। তবে চালুর পাঁচ বছর পর ২০০৭ সালে সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় সেবাটি। এরপর টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠালেও কোনো টেকনিশিয়ান পাওয়া যায়নি।

এরপর ২০২০ সালের শেষ দিকে করোনা মহামারির সময়ে চিকিৎসাসেবা জোরদারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালে একটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেশিনটি যথাযথভাবে স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে পুরোনো এনালগ ও নতুন ডিজিটাল—দুটি মেশিনই অব্যবহৃত পড়ে আছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দিদার ও আবু সায়েদ বলেন, দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর তারা হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের মেশিন বন্ধ থাকায় বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করাতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে সেবা চালু থাকলে কম খরচে পরীক্ষা করা সম্ভব হতো বলেও তারা জানান।

চরপাগলা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সৈয়দ আহাম্মদ বলেন, দুর্ঘটনায় বুকে আঘাত পাওয়ার পর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দেন এবং তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে এক্স-রে সুবিধা চালু থাকলে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন রয়েছে। তবে টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের কথা বিবেচনা করে টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর