বিনোদন

কর্নেলকাণ্ডে পিউয়ের প্রশ্নে নতুন আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যৌন সহিংসতার মতো ঘটনায় শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও সমানভাবে আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে এমন ঘটনায় নীরব থাকার সংস্কৃতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবরের। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী, যিনি মামলায় ‘জেন ডো’ নামে পরিচিত, অভিযোগ করেছেন—একটি ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠানে তাকে মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণের পর সাতজন পুরুষ যৌন নিপীড়ন করেন। পরে তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।

অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তদন্ত

মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার এবং অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনার সময় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় ঘটনাটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে। তদন্তটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। তবে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইন উল্লেখ করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয়। সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের শাখাটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘পুরুষদেরও সরব হতে হবে’

ঘটনাটি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ফ্লোরেন্স পিউ। তিনি লেখেন, তরুণীর অভিযোগের কথা পড়ে তিনি অস্বস্তি, উদ্বেগ ও ক্ষোভ অনুভব করছেন। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে পুরুষদের আরও সক্রিয়ভাবে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

পিউয়ের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল নীরব দর্শকদের ভূমিকা। তার প্রশ্ন—এমন গুরুতর ঘটনা সম্পর্কে কেউ জানতে পারলে কেন তা ঠেকানোর চেষ্টা করবেন না? তিনি মনে করেন, যৌন সহিংসতার সংস্কৃতি বদলাতে পুরুষদেরও আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অভিনেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, এমন ঘটনা হঠাৎ ঘটে যায়, নাকি এর পেছনে আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি থাকে। তার মতে, কেউ যদি সম্ভাব্য নিপীড়ন সম্পর্কে জানেন এবং তা প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে সেই নীরবতার ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়েও কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন পিউ। তার বক্তব্য, যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ভবিষ্যৎ বা সুনামের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি অভিযুক্ত কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করে, তাহলে সেটি ভুক্তভোগীর ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।

পিউ একই সঙ্গে কর্নেলের যেসব শিক্ষার্থী অভিযোগকারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদেরও সমর্থন জানান।

‘নারীর নিরাপত্তা ছাড়া সমতা নয়’

বিবৃতির শেষ দিকে নারী-পুরুষের সমতার সঙ্গে নারীর নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরেন পিউ। তার বক্তব্য, নারীর শরীর, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

নারীরা যেন নিরাপদভাবে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে পারেন এবং যৌন সহিংসতার ভয় ছাড়াই চলাফেরা করতে পারেন—এমন পরিবেশ তৈরিতে পুরুষদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ইনস্টাগ্রাম নিয়ে পিউয়ের প্রশ্ন

কর্নেলকাণ্ড নিয়ে নিজের পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলেন পিউ। তার দাবি, তিনি এবং তার কয়েকজন অনুসারী পোস্টটি দেখতে পারছিলেন না। পরে তিনি জানতে চান, ধর্ষণ নিয়ে কথা বলার কারণে তার পোস্ট কি প্ল্যাটফর্মে সীমিত করা হয়েছে?

পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, পোস্টটি আবার দৃশ্যমান হয়েছে। তবে ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি কেন সাময়িকভাবে সীমিত হয়েছিল, সে বিষয়ে ভিন্ন কোনো কারণ প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।

নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের বিষয়ে এর আগেও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ফ্লোরেন্স পিউ। এবার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এদিকে অভিযোগটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু হওয়ায় ঘটনাটির আইনি দিকও নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর