কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো, নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনানো এবং অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দালালদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে থেকে চারজনকে আটক করেন আনসার সদস্যরা। তাদের বিরুদ্ধে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ ছিল।
এরপরও দালালদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর র্যাব-১১ ও জেলা প্রশাসন কুমেক হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় ১৪ জনকে আটক করে যাচাই করা হয়। দালালি কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহজাহান বলেন, দালালদের উৎপাত রোধে আনসার ও হাসপাতালের কর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করা হলেও তারা কারাভোগ শেষে আবার হাসপাতালে ফিরে এসে একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে দালাল প্রতিরোধে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করা হবে।
হাসপাতালের আশপাশের লোকজনের ভাষ্য, দালালদের একটি অংশ সকাল থেকে বিকেল, আরেকটি অংশ বিকেল থেকে রাত এবং অন্য একটি অংশ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করে। ফলে হাসপাতালের ২৪ ঘণ্টার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই তাদের তৎপরতা চলে।
এক আনসার সদস্য জানান, জরুরি বিভাগ ও ক্যাজুয়েলটি থেকে রোগীদের কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ, দালালদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজনকে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবাদ করায় রোগীর স্বজনদের বাড়ি ফেরার পথে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, হাসপাতালে দালালচক্রের ফাঁদ থেকে রোগীদের রক্ষায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি