দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এর মধ্য দিয়ে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিএমইউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপাচার্য। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।
তিনি জানান, সম্ভাব্য ‘ইমোশনাল ডোনার’-এর আইনগত ও চিকিৎসাগত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের পরই প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রোগীর সঙ্গে ডোনারের সম্পর্ক, দানের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা হয়েছে।
বিএমইউ সূত্র জানায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত এক রোগী গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত এক স্বেচ্ছাদাতা তাকে কিডনি দান করেন।
অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে।
ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, দেশের প্রথম ‘ইমোশনাল ডোনার’ কিডনি প্রতিস্থাপন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই সফলতা শুধু একজন রোগীর চিকিৎসায় সাফল্য নয়; বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি