অর্থনীতি

নবম পে-স্কেলের পর বেসরকারি শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল কার্যকর ও প্রজ্ঞাপন জারির পর বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের আয় একই থাকলে তাদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় জারি করা আদেশ অনুযায়ী, নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ইনক্রিমেন্টসহ পুরো বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের মজুরি নিয়েও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার প্রভাব বাজারে পড়বে। এতে শ্রমিকদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি চা, চামড়া, টেক্সটাইলসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের জন্য জাতীয়ভাবে ৩৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি করেন। চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিনও নতুন পে-স্কেলকে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গার্মেন্টস খাতে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সে হিসাবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পুনরায় মজুরি বৃদ্ধির সময় হলেও এখনো নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়নি।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের আয়-বৈষম্য কমাতে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর