প্রধান প্রতিবেদন

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ 

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনে নানা নিয়মনীতি বা শর্ত থাকলেও সরকারিতে নেই। যার কারণে নিছক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়। এগুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও শিক্ষক, এমনকি ল্যাবও নেই। নামে মেডিকেল কলেজ হলেও মানহীন শিক্ষা নিয়ে বের হচ্ছেন চিকিৎসক হিসেবে।

দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে ৭১টি। গত তিন বছরে দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে। এগুলো হলো সাভারের আশুলিয়ায় নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ ও মোহাম্মদপুরের কেয়ার মেডিকেল কলেজ। রাজশাহীর শাহ মখদুম, রাজধানীর আইচি ও নর্দার্ন মেডিকেল কলেজ এবং রংপুর নর্দার্ন—চারটি মেডিকেল কলেজকে অবকাঠামো উন্নতিসহ নানা শর্ত দিয়ে ভর্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।

২০১৯ সালের ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক যাত্রা শুরু। বর্তমানে ৪০০ শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। যদিও সাত বছরেও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ পায়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস। ভূমি অধিগ্রহণ চূড়ান্ত না হওয়ায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চলছে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। এ নিয়ে ক্ষোভ আর দুর্ভোগের অন্ত নেই শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে ৫৫ জন শিক্ষক আছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ২৩ জন শিক্ষকের পদ খালি।

দায়িত্ব নেয়ার পর নরসিংদীতে মেডিকেল কলেজ করার কথা বলেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে সার্বিক বিবেচনায় এখন আর কোনো মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানালেন তিনি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি মিন করছি না, তবে অর্থের অভাবে কাজগুলো ধীরগতিতে আছে বা হচ্ছে না। যেগুলো হয়েছে সেগুলোকে আমরা রিভাইব করানোর জন্য, এই ইনভেস্টমেন্টটাকে ফ্রুটফুল করার জন্য, ইকোনোমি করার জন্য ওইদিকে চেষ্টা করছি। এ মুহূর্তে নতুন মেডিকেল কলেজ করার জন্য চিন্তাভাবনা করছি না।’

জটিল পরিস্থিতিতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। তবে মান নিশ্চিত না করে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের মন জয়ে নিজ জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অনেক প্রার্থীই। রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্মিত সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ধুঁকছে নানা সংকটে। বেসিক সাইন্সের অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োক্যামিস্ট্রি এই তিন বিষয়ে শিক্ষক অনেক কম। সেজন্য মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রিডেশন কাউন্সিল। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সেশনে ৫০০ আসনে কোনো শিক্ষার্থী পায়নি মেডিকেল কলেজ। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মেডিকেল কলেজের অনুমোদন না দেয়ার পক্ষে বিএমডিসি।

বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে মেডিকেল কলেজগুলো হয়েছে, সেখানে শিক্ষকের অভাব আরও বেশি প্রকট। অবকাঠামোগুলোকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি, আর্থিক সক্ষমতা যদি আমাদের থাকে সেক্ষেত্রেও। কিন্তু আমরা শিক্ষকদের সংকটটা খুব সহজে মিটিয়ে ফেলতে পারবো বলে মনে হয় না। ফলে দুর্বল মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই।’ এদিকে, সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে জনবল ঘাটতি থাকলে মানহীন চিকিৎসক তৈরি হলে তা পুরো স্বাস্থ্যখাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সন্ধানী বার্তা/এম/এএইচ


সম্পর্কিত খবর