খেলা

বেতন পেলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় জেরার্ড জোন্স

বেতন না পাওয়ার হতাশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ জেরার্ড জোন্স। তার সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন পোস্ট দিয়ে বেতন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ এই কোচ। তবে ব্যাংকিং জটিলতা, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে দলের সঙ্গে কাজ করছেন জেরার্ড। নতুন পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আগের পোস্টের ব্যাপারে কিছু আপডেট। ব্যাংকিংসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এখন কাজ করছি। আমি অর্থ পেয়েছি, কিন্তু আরও কিছু চ্যালেঞ্জ ও জটিলতা রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি।’

নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে জানানো ও প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই কোচ।

নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেরার্ড। তিনি লিখেছেন, ‘স্ত্রী এবং তিন সন্তান থেকে দূরে থাকা এমনিতেই কঠিন। এর মধ্যে গতকাল ঢাকায় এবং আজ এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যা আমাকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং অসহায় বোধ করিয়েছে। গাড়ির কাছে এসে তাতে ধাক্কা দেওয়া এবং আমাকে ঘিরে ধরে অর্থ চাওয়া। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে আমার কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য এসেছেন।’

চলমান পরিস্থিতিতে নিজেকে একা ও অসহায় মনে হচ্ছে জানিয়ে জেরার্ড আরও লিখেছেন, ‘চলমান অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা এবং এখানকার জীবনযাত্রা—সব কিছু মিলে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এখানে কোনো সহানুভূতি ছাড়াই নিজেকে খুব একা অনুভব করছি। ভীত ও শঙ্কিত, দিশেহারা, অসহায় এবং একা। আশা করছি, সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে। কেননা কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই আমার কাজটা করতে চাই।’

এর আগে বেতন না পাওয়ায় পরিবারকে অর্থ পাঠাতে না পারার হতাশা প্রকাশ করেছিলেন জেরার্ড। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘বিষণ্ন। হতাশ। পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। প্রতিনিয়ত ভুল-বোঝাবুঝি বা অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, আর আজকে পরিস্থিতিটা মেনে নেওয়া আরও কঠিন ছিল। বেতনের অপেক্ষায় আছি। স্ত্রী-সন্তানদের খাবারের জন্য অর্থ পাঠাতে পারছি না। আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত ও ভীত।’

কোচের এমন পোস্টে হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, ৯ আগস্টই জেরার্ডের অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা পাঠানো হয়েছে। রেমিট্যান্সের কারণে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও ১০ আগস্টের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হয়েছেন বলে জানান।

এদিকে মাঠের লড়াইয়ের প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। আগস্টের শেষ দিকে ২০২৭ এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর