
নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা গায়ক লাকি আলী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতার ভালোবাসা পাওয়া এই শিল্পী সম্প্রতি এক কনসার্টে গিয়ে ভক্তদের আবেগে ভাসিয়েছেন। তবে গান ও স্মৃতিচারণার একপর্যায়ে মৃত্যু ও জীবনের নশ্বরতা নিয়ে তার করা একটি মন্তব্য মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো আসর।
৬৭ বছর বয়সী লাকি আলী কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। এমনকি ভ্রমণের সময়ও সঙ্গে ইহরামের কাপড় রাখেন, যা তিনি নিজের কাফনের কাপড় হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভক্তদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে লাকি আলী বলেন, ‘আমি জানি, আমিও তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের তার জন্য প্রস্তুত করছি না, তবে আমি নিজে প্রস্তুত। আমি যখনই ভ্রমণ করি, সঙ্গে ইহরাম রাখি, যেটি আমার কাফনের কাপড়। যেখানেই আমার মৃত্যু আসুক, সেখানেই আমাকে ছেড়ে দিও।’
শিল্পীর এমন আধ্যাত্মিক বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে ওঠে কনসার্টের পরিবেশ। একপর্যায়ে দর্শকসারির এক অনুরাগী আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চিৎকার করে বলেন, ‘৩০ বছর হয়ে গেল। আমি লাকিকে কখনো ছাড়িনি।’
কনসার্টের এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন লাকি আলী। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় শিল্পীর এমন বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে নানা মন্তব্য করেন ভক্তরা। কেউ তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন, আবার কেউ তার বক্তব্যের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন।
নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতের মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে আলাদা পরিচয় তৈরি করেন লাকি আলী। কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের ছেলে হয়েও বলিউডের প্রচলিত ধারায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বরং স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নিজের আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী।
‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘ইউভা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ ও ‘তামাশা’র মতো সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন লাকি আলী। তবে তার গাওয়া ‘ও সানাম’ গানটি এখনো সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
২০১৫ সালের পর থেকে বলিউড ও মূলধারার বাণিজ্যিক সংগীত থেকে কিছুটা দূরে সরে নিজের মতো করে স্বাধীন সংগীতচর্চায় মনোনিবেশ করেন এই শিল্পী। ব্যক্তিগত জীবনেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। তিনবার বিয়ে করলেও কোনো সম্পর্কই স্থায়ী হয়নি। তবে সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং সন্তানদের প্রতিও দায়িত্বশীল থেকেছেন বলে জানা যায়।
সন্ধানী বার্তা/এসএ





