
ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে বলিউডের পরিচালক শাকিল নূরানীকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। ৭৩ বছর বয়সী এই নির্মাতা ‘বড়ে দিল ওয়ালা’ ও ‘জোরু কা গুলাম’-এর মতো সিনেমা পরিচালনা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৮ আগস্ট ভোরে মুম্বাইয়ের মালবানি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
৩৩ বছর বয়সী এক অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাকিল নূরানীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(২)(এম), ১২৩, ৩৫১(২) ও ৮৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে লোখান্ডওয়ালায় একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নূরানীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। সে সময় পরিচালক তাঁকে তাঁর একটি আসন্ন সিনেমার কথা জানান এবং কাজের বিষয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরে একটি চিত্রনাট্য পড়ার জন্য মালবানিতে নূরানীর বাড়িতে যান ওই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, সেখানে পরিচালক তাঁকে একটি পানীয় দেন, যাতে মাদক মেশানো ছিল। পানীয়টি খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর নূরানী তাঁকে তাঁর মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখান। বিষয়টি পুলিশ বা পরিবারের সদস্যদের জানালে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী।
অভিযোগকারীর দাবি, পরে ওই ভিডিওকে হাতিয়ার করে তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি যৌন সম্পর্কের পর পরিচালক তাঁকে বারবার গর্ভনিরোধক ওষুধ খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে শাকিল নূরানীর আইনজীবী বিকাশ সিং গোর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মিথ্যা মামলায় পরিচালককে ফাঁসানো হয়েছে।
আইনজীবী আরও বলেন, আদালতে এখনো অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নূরানীকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
তদন্তের স্বার্থে শাকিল নূরানীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে মুম্বাই পুলিশ। অভিযোগে উল্লেখ করা ভিডিওটি উদ্ধার ও পরীক্ষা করা, সেটির সত্যতা যাচাই এবং একই ধরনের আরও কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁর হেফাজত প্রয়োজন বলে জানায় পুলিশ।
পরে নূরানীকে বোরিভেলির হলিডে কোর্টে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।
সন্ধানী বার্তা/এসএ





