নির্বাচিত

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ভারতীয় আম্পায়ার ছাড়াই হকি

প্রায় তিন দশক পর বিরল এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারতীয় হকি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় আম্পায়ার ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হকি বিশ্বকাপ।

সবশেষ ১৯৯৮ সালে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোনো ভারতীয় আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। এবারও নেদারল্যান্ডসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নেই ভারতের কোনো আম্পায়ার।

আগামী ১৪ আগস্ট নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের যৌথ আয়োজনে শুরু হবে হকি বিশ্বকাপের ১৬তম আসর। টুর্নামেন্টের ‘ডি’ পুলে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সঙ্গে খেলবে ভারত। ১৫ আগস্ট ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা।

হকির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই অন্তত একজন ভারতীয় আম্পায়ার ছিলেন। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ সালের আসর।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র চারজন ভারতীয় আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন অমরজিত সিং বাওয়া, তারলক সিং ভুলার, সতীন্দর শর্মা ও রঘু প্রসাদ।

অমরজিত সিং বাওয়া ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে দায়িত্ব পালন করেন তারলক সিং ভুলার। সতীন্দর শর্মা ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে আম্পায়ার ছিলেন। আর রঘু প্রসাদ ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেন।

ভারতীয় আম্পায়ারিংয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি রঘু প্রসাদ। এশিয়ার প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ২০০টি আন্তর্জাতিক হকি ম্যাচ পরিচালনার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর গত বছর বাঁশি তুলে রাখেন তিনি।

রঘু প্রসাদের অবসরের পর ভারতীয় হকির আম্পায়ারিংয়ে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্যানেলভুক্ত আম্পায়ারের ঘাটতিই এবার বিশ্বকাপের আম্পায়ারিং প্যানেলে ভারতের প্রতিনিধিত্ব না থাকার অন্যতম কারণ।

আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) ঘোষিত ১৬ সদস্যের আম্পায়ারিং প্যানেলে ইউরোপীয় আম্পায়ারদের প্রাধান্য রয়েছে। সেখানে কোনো ভারতীয় আম্পায়ারের নাম না থাকায় দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে।

ভারতের জন্য বিষয়টি আরও হতাশার, কারণ ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দেশটির কোনো আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন না।

একদিকে বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের অংশগ্রহণ থাকছে, অন্যদিকে আম্পায়ারিংয়ে থাকছে না কোনো প্রতিনিধিত্ব। ফলে ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ভারতীয় হকির জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক বিরল ও হতাশাজনক অধ্যায়।

সন্ধানী বার্তা/এসএ

 


সম্পর্কিত খবর