বিনোদন

ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে মৌলভীবাজারে চীনা তরুণীর বিয়ে

ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমানা পেরিয়ে ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন চীনা তরুণী ক্রিস হোয়ে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রীয় আচার অনুযায়ী স্থানীয় তরুণ সুকান্ত সেনের সঙ্গে তার এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার তারাপাশা বিষ্ণুপদ ধামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের এই দুই হৃদয়ের মিলন ঘটে। লাল বেনারসি শাড়ি আর বাঙালি বধূর সাজে ক্রিস হোয়ে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়েন।

বর সুকান্ত সেন রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের সন্তান। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে প্রায় আট বছর আগে তিনি চীনে পাড়ি জমান। সেখানে সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে পুনরায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে আমদানি-রফতানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে, কনে ক্রিস হোয়ে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ব্যবসার সূত্রেই সুকান্তের সঙ্গে তার পরিচয় এবং দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্কের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে তাদের আইনি বিয়ে সম্পন্ন হলেও ক্রিসের আগ্রহেই বাংলাদেশে এসে পুনরায় ধর্মীয় রীতিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে কনেকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফেরেন সুকান্ত। ভিনদেশি কনের আগমনের খবরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্রিস হোয়ের বাবা-মা ও চাচাও চীন থেকে এসে যোগ দেন। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বিষ্ণুপদ ধামে শাস্ত্রীয় বিধান মেনে সাত পাকে ঘোরা এবং সিঁদুর দানসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সুকান্ত সেন বলেন, ‘হয়তো ভাগ্যই আমাদের এক করেছে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই আমরা এই আয়োজন করেছি। আমরা দুজনেই খুব খুশি।’

চীনা কনে ক্রিস হোয়ে বলেন, ‘এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ এবং তারা আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পুরো আয়োজনটি আমার জন্য দারুণ উপভোগ্য ছিল।’

সুকান্তের বোন ঐশী সেন জানান, ক্রিস খুবই আন্তরিক এবং অল্প সময়েই পরিবারের সবাইকে আপন করে নিয়েছেন। স্থানীয় কবি ও শিক্ষক জাহাঙ্গীর জয়েস মন্তব্য করেন, ‘ভাষা ও সংস্কৃতি আলাদা হলেও হৃদয়ের টানে যে দূরত্ব কোনো বাধা নয়, রাজনগরের এই বিয়ে সেটিই প্রমাণ করল।’

বিষ্ণুপদ ধামের সাধারণ সম্পাদক রুদ্রজিত দে জানান, ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এই বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/জেএন


সম্পর্কিত খবর