জাতীয়

প্রযুক্তির বিশ্বে টিকে থাকতে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আধুনিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে সংগঠনটির ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। তাই প্রকৌশলীদের জন্য যুগোপযোগী ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে দ্রুত বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া গেলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সহজ হবে। এর সুফল পাবে প্রতিটি পরিবার এবং সামগ্রিকভাবে দেশ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের আহ্বান
একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সব উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রযাত্রার কেন্দ্রে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। নিজেদের মধ্যে অনৈক্য বা বিভেদ তৈরি করা যাবে না, কাউকেও সে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

মন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদানের কথা তুলে ধরলেন মন্ত্রী
প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদমর্যাদা উন্নীত করে ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। প্রশিক্ষণের সুযোগ বিস্তৃত করার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/জেএন


সম্পর্কিত খবর