বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে আবেদনপ্রক্রিয়া গত ৩০ অক্টোবর শেষ হয়েছে। তবে চলমান নিয়োগে কতজন কনস্টেবল নিয়োগ পাবেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগের প্রকৃত সংখ্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ১০ হাজার কনস্টেবল যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে পুলিশে প্রায় ২ হাজার কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি নতুন পদে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামারুম মুনিরা জানান, বর্তমানে শূন্য থাকা ২ হাজার কনস্টেবল পদে চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনবল নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত নতুন ১০ হাজার পদের মধ্য থেকে আরও ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান নিয়োগেই ৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রস্তাবিত ১০ হাজার নতুন পদের মধ্যে আরও ৬ হাজার পদ খালি থাকবে। পরবর্তী সময়ে এসব পদে ধাপে ধাপে নিয়োগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ একবারে পুরো ১০ হাজার পদে নিয়োগ না দিয়ে পর্যায়ক্রমে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর সারা দেশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে আবেদন শুরু হয় ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টায়। আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ৩০ অক্টোবর বিকেল ৫টা। আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এখন প্রার্থীদের বাছাইয়ের পরবর্তী ধাপ নিয়ে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের কয়েকটি ধাপে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রথমে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ের পর শারীরিক মাপ ও শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আবেদনপত্রে কিংবা বাছাইয়ের যেকোনো পর্যায়ে ভুয়া বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
পুলিশে ৪ হাজার এসআই নিয়োগেও অনুমোদন
কনস্টেবল নিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে।
আগে এসআই পদের ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার শতভাগ পদেই সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রার্থীদের জন্য পুলিশে এসআই পদে চাকরির সুযোগ বাড়বে।
সচিব কমিটির সভায় এসআই ও কনস্টেবল পদ মিলিয়ে পুলিশে মোট ১৪ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা তদন্ত ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সন্ধানী বার্তা/এসএ/এমএসআইপি