আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জোটটি।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোনও প্রতিহত করার দাবি করেছে জোট। হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, উভয় এলাকায় বিপদ কেটে গেছে।

লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলো ঘিরে হুতিদের তৎপরতা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হুতিদের অগ্রযাত্রার পর তাদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এ সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি বাব আল-মানদেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিসহ বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে এ পথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে প্রণালিটি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ভেঙেছে যুদ্ধবিরতি, নতুন করে সংঘাত
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত অনেকটাই কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার এ ঘটনা দুই পক্ষের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি/জেএন


সম্পর্কিত খবর