আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। বল হাতে তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত শুরু এবং ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুই ইনিংসেই মাঝের ওভারগুলোতে ছন্দ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
তাসকিনের তোপে শুরুতেই বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়ে
টসের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৭ ওভারে ২৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় দলটি। ওই সময় তাসকিনের বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট।
তবে শুরুতে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর চতুর্থ উইকেটে বড় জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তাঁদের ব্যাটিংয়ের সামনে মাঝের ওভারগুলোতে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা।
টেলর-আরভিনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে
৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন টেলর ও আরভিন। দুজনই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করে রান তোলার গতি সচল রাখেন। তাঁদের ১৭৬ বলের জুটিতে আসে ১৫০ রান, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
অবশেষে সপ্তম বোলার হিসেবে সাইফ হাসানকে আক্রমণে আনেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। সাইফ পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ৮১ রান করা টেলর। পরের ওভারে ৪ রান করা সিকান্দার রাজাকেও ফিরিয়ে দেন সাইফ।
অন্যদিকে, ১০৬ বলে ৯৩ রান করা আরভিনকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই উইকেটগুলো এলেও ততক্ষণে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শক্ত ভিত পেয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৭১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি।
মাঝের ওভারেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের বোলিং
বাংলাদেশের বোলিংয়ে শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু তাসকিনের প্রথম স্পেলের পর অন্য বোলাররা জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরীফুল ইসলাম নিয়মিত উইকেট এনে দিতে ব্যর্থ হন। স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন ও রিশাদ হোসেনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
বিশেষ করে ওয়ানডেতে মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা রিশাদ হোসেন এদিন ছিলেন বেশ খরুচে। ৯ ওভারে ৬৬ রান দেন তিনি। ফলে শুরুতে জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করেও ইনিংসের মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।
তানজিদ-সৌম্যর ঝোড়ো শুরু, এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৬ ওভারে তুলে নেন ৪৭ রান। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করার মতো অবস্থানেই রয়েছে দলটি।
কিন্তু উদ্বোধনী জুটির পরই বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল যাঁদের, তাঁদের কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
তানজিদ আগের বলে জীবন পাওয়ার পর পরের বলেই ক্যাচ তুলে দেন। সৌম্য সরকারও স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন বলের লাইন বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ফলে ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিরোধ গড়ার মতো কেউ ছিলেন না।
শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা, তবু বড় হার
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতার পর শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দুজনের ২৬ বলে ৩৬ রানের জুটি হারের ব্যবধান কিছুটা কমালেও ম্যাচের ফল বদলানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
জিম্বাবুয়ের বোলাররা অসাধারণ কিছু করেছেন, এমন নয়; বরং বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুল শট নির্বাচন ও দায়িত্বহীন উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। শুরুতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও মাঝের ওভারগুলোতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছন্দ হারানোয় শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ফাইনালে উঠতে কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে
ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ২১ অক্টোবর সিরিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। ফাইনালে উঠতে হলে ওই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। পাশাপাশি ফাইনালে যাওয়ার পথ তৈরি করতে অন্যান্য ফল ও রান রেটের সমীকরণও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে।
তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিং কিংবা তানজিদ-সৌম্যর ঝোড়ো শুরুর মতো ইতিবাচক দিক থাকলেও পুরো ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার পুরোনো সমস্যাই আবার সামনে এসেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে সিরিজের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে।
সন্ধানী বার্তা/এএএন/এসএ