জাতীয়

নির্মাণের মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতায় কোনো ছাড় নয়, কঠোর অবস্থানে সড়ক মন্ত্রী

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চান না সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আধুনিক, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখা এবং পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। তাঁর এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোর মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ
  • যানজট কমানো ও শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা

‘অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়’
নির্মাণশৈলী, গুণগত মান ও নান্দনিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। তাই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; এর গুণগত মান, স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলীও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মান ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণমান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ। প্রকল্পটির আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের এই অগ্রগতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল আরও সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ–মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগে বাড়বে গতি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক করিডর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিবেচনায় পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

দোতলা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধি, যাতায়াতের সময় কমানো এবং শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে


সম্পর্কিত খবর