দিনাজপুরের হিলিতে মাচায় অসময়ের তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আতিয়ার রহমান। প্রথমবার ৪০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে লাখপতি হয়েছেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে আরও ভালো লাভের আশা করছেন এই কৃষক। তার সাফল্য দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান স্থানীয় কৃষি অফিসের প্রদর্শনী হিসেবে ৪০ শতাংশ জমিতে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উচ্চ তাপমাত্রা ও বৃষ্টি সহনীয় ‘বেঙ্গল টাইগার’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে ভালো ফলন এসেছে। তরমুজ পাকতে শুরু করায় ইতোমধ্যে বাজারজাতও করছেন তিনি।
কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, বীজ রোপণ থেকে শুরু করে তরমুজ সংগ্রহ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি প্রতি মণ তরমুজ ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। প্রথম চালানেই ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনো অনেক তরমুজ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ধানের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভ বেশি। তাই আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, আতিয়ারের তরমুজের জমিতে কাজ করে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার সাফল্য দেখে গ্রামের আরও অনেক কৃষক মাচায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, মাচায় তরমুজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। অসময়ের ফল হওয়ায় এ চাষে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মানুষের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে। বর্তমানে হিলিতে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে মাচায় তরমুজ চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় আগামীতে এ আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি