জাতীয়

মামলার পরই গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামায়াত নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • বিমানবন্দরের ইডিকে হুমকি
  • নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

লাগেজ-ট্রলি নিয়ে উত্তেজনা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকটে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। এজাহারে অভিযোগ, সেখানে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দিলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

আট ধারায় মামলা, তারপরই গ্রেপ্তার
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে এসব ধারায়। মামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন


সম্পর্কিত খবর